এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম দেড় বছরের বেশি সময়ের সর্বনিম্নে নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও অনুকূল আবহাওয়া জ্বালানিপণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া দাম কমে আসায় ক্রয়চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও বেয়ার্ড মেরিটাইম।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড়মূল্য ছিল ১০ ডলার, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। আগের সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় দাম ছিল ১০ ডলার ৬৬ সেন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় দাম ছিল ৯ ডলার ৬০ সেন্ট।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সিনিয়র এলএনজি অ্যানালিস্ট কেশের সুমীত বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এলএনজির শক্তিশালী সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে এলএনজির দামে চাপ তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার হিটিং ডিগ্রি ডেজ (এইচডিডিএস) পরবর্তী দুই সপ্তাহে ১০ বছরের গড়ের নিচে থাকবে। দিনে গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৬৫ ডিগ্র ফারেনহাইট) নিচে থাকলে ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উষ্ণ করার প্রয়োজন পড়ে। এর ওপর নির্ভর করে এইচডিডিএস গণনা করা হয়।
কেশের সুমীত আরো বলেন, ‘দাম কমে আসায় ভারতীয় ক্রেতারা ক্রয় বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি চীনা আমদানিকারকদের মধ্যে ক্রয় আগ্রহ দেখা দিয়েছে।’
তবে আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র জানান, দামের প্রতি সংবেদনশীল ক্রেতাদের কাছে এলএনজির চাহিদা বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোয় এরই মধ্যে ভালো মজুদ থাকায় চাহিদা কম।
নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড়মূল্য ছিল ৮ ডলার ৭৯ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৫৩ সেন্ট কম।
আর্গাস এ দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ৮ ডলার ৭৮ সেন্ট। স্পার্ক কমোডিটিজও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ৮ ডলার ৭৮ সেন্ট।
এসপি গ্লোবালের আটলান্টিক এলএনজির ম্যানেজার অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলের অবস্থান, মৃদু তাপমাত্রা ও পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি আমদানি শক্তিশালী রয়েছে। তাই দাম কমছে।’
স্পার্ক কমোডিটিজ বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে গত সপ্তাহে এলএনজির পরিবহন ব্যয় ছিল দৈনিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৫০ ডলারে। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ৮৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমেছে।